Thursday, June 25, 2026
সেই কটকটি সাল থেকে এখন অব্দি দামী পোশাককেই মানুষ প্রাধান্য দেয় বেশি।
আর আমি সাদামাটাভাবেই চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি..
আমি কখনোই চাই নি আমার পরিচয় আমার বাইরের আবরণ বহন করুক,সবসময় চেয়েছি কর্মের মাঝেই পরিচয় হোক আমার। মোল্লা নাসিরুদ্দিন এর গল্পটি আমার প্রায়ই মনে পড়ে..
গল্পের প্রেক্ষাপট:
এক ধনী ব্যক্তি তার বাড়িতে একটি বড় ভোজের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে এলাকার গণ্যমান্য অনেক ব্যক্তি আমন্ত্রিত ছিলেন। কিন্তু সাধারণ পোশাক পরায় দরিদ্র নাসিরুদ্দিন হোজ্জাকে কেউ পাত্তাই দিল না।
যা ঘটেছিল:
প্রথম দিন সাধারণ পোশাকে যাওয়ায় হোজ্জা ঠিকমতো খাবার পাননি এবং তাকে সবাই এড়িয়ে চলেছিল। পরের দিন তিনি অত্যন্ত মূল্যবান ও জমকালো দামি পোশাক পরে ওই ধনী ব্যক্তির দাওয়াতে হাজির হলেন। এবার সবাই তাকে দেখেই সম্মান জানিয়ে খাবারের টেবিলে বসাল এবং নানা পদের সুস্বাদু খাবার সামনে এনে হাজির করল।
তবে অবাক করার মতো কাণ্ড ঘটালেন হোজ্জা। তিনি নিজে খাওয়ার বদলে প্লেট থেকে পোলাও, মাংস ও সুস্বাদু খাবারগুলো তুলে নিজের দামি পোশাকের পকেটে এবং হাতা (sleeve) গুঁজে দিতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, "খাও, হে আমার জমকালো পোশাক! এই রাজকীয় খাবার তোমারই প্রাপ্য!"
উপস্থিত সবাই তো অবাক! তারা হোজ্জাকে জিজ্ঞেস করল, "হুজুর, এ কী করছেন আপনি? কেউ কি কখনো পোশাককে খাবার খাওয়াতে দেখেছে?"
উত্তরে হোজ্জা মুচকি হেসে বললেন, "পোশাক যদি খাবার না-ই খাবে, তবে গতকালের দাওয়াতে যখন আমার গায়ে সাধারণ পোশাক ছিল, তখন আপনারা আমাকে কোনো খাবার দেননি কেন? আর আজ দামি পোশাক পরায় আপনারা এত খাতির করছেন। আপনারা তো আমাকে নয়, আমার এই দামি পোশাককেই আপ্যায়ন করছেন! তাই এদেরই খাবার খাওয়াচ্ছি।"
গল্পের শিক্ষা:
এই কৌতুকপূর্ণ ঘটনার মাধ্যমে নাসিরুদ্দিন হোজ্জা সমাজে মানুষের বাহ্যিক রূপ ও পোশাক-আশাক দেখে মূল্যায়ন করার হিপোক্রেসি বা ভণ্ড নীতিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।।
গতকালকের একটি ঘটনা আমাকে গল্পটি মনে করিয়ে দিল।
গেলাম ঔষধ আনতে।ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনু্যায়ী কম্পাউন্ডার ঔষধ দিয়ে আমাকে পড়ে পড়ে বুঝিয়ে দিলেন আর আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "বলেন তো কি কি বলেছি?"
আমি বললাম, বুঝেছি।
কম্পাউন্ডার :না,বলেন।
আমি আবারো বললাম, বুঝেছি।
নাহ।এটা তার মনমতো হলো না।
বাবা বললো, আরে ঔষধগুলো দিয়ে দাও।সে এগুলো নিয়েই পড়াশোনা করেছে।
লোকটা বিব্রতবোধ করল।যেটা আমি চাইনি।উনি আসলে আমার পোশাক দেখে ভেবেই নিয়েছে যে, আমি পড়ালেখা জানি না।
এইরকম আমার সাথে হরহামেশাই হয়।আমি এসব কাণ্ড থেকে মনে মনে বেশ মজা পাই।অন্যরকম স্মৃতির ভাণ্ডার জমা করি।তবুও আমি সাধারণভাবে চলতে থাকি..
অনিন্দিতা দেব
২৫/৬/২০২৬
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment